সমসাময়িক বিষয়ে ইসলামিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-০২

 প্রশ্ন (১): চুল কাটার পর গোসল না করে ছালাত আদায় করলে তার ছালাত হবে কি এবং নাভিরনিচের চুল কাটার পর গোসল কি ফরয?

উত্তর: স্ত্রী সহবাস বা অন্য কোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে, নারীরা মাসিক কিংবা নিফাস থেকে পবিত্র হলে গোসল ফরয হয়। এছাড়া অন্য কোনো কারণে গোসল ফরয হয় না। তাই চুল কাটলে কিংবা নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করলেও গোসল ফরয হয় না। অনুরূপভাবে চুল কাটা অযূ ভঙ্গেরও কোনো কারণ নয়। তাই অযূ অবস্থাতে চুল কেটে, সেই অযূতেই ছালাত আদায় করতে পারে। উল্লেখ্য, নাভির নিচের লোম চল্লিশ দিনের বেশি ছেড়ে রাখা উচিত নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫)।


প্রশ্ন (২): মহিলাদের সাদা স্রাব হলে কি অযূ ভেঙ্গে যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, কোনো রোগ ছাড়াই যদি কোনো কারণে সাদাস্রাব বের হয়, তাহলে তাতে অযূ ভেঙ্গে যাবে। সাহল ইবনু হুনায়ফ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রচুর মযী নির্গত হতো, তাই বহুবার গোসল করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘এতে তোমার জন্য শুধু অযূ করাই যথেষ্ট’। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তা আমার কাপড়ে লেগে গেলে কী করতে হবে? তিনি বললেন, ‘তোমার কাপড়ের যে অংশে তা লাগবে, সেই অংশ এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দ্বারা ধৌত করলেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে’ (তিরমিযী, হা/১১৫; ইবনু মাজাহ, হা/৫০৬)। তবে এটি যদি কারো নিয়মিত হতে থাকে, যা এক ধরনের ব্যাধি, তাহলে তাতে অযূ ভঙ্গ হবে না। ঐ অবস্থাতেই সে ছালাত আদায় করবে। তবে তার জন্য প্রতি ওয়াক্তে অযূ করা আবশ্যক হবে, তখন এর হুকুম হবে রক্তপ্রদর রোগের (ইস্তিহাযার) মতো (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৭)।


প্রশ্ন (৩) : নির্জনে থাকাবস্থায়ও কি লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা আবশ্যক?

উত্তর: হ্যাঁ, নির্জনে থাকলেও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতে হবে। বাহয ইবনু হাকীম রাহিমাহুল্লাহ তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার দাদা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের ঢেকে রাখার অঙ্গসমূহ কার সামনে আবৃত রাখব এবং কার সামনে অনাবৃত করব? তিনি বললেন, ‘তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত সকলের সামনে তা আবৃত রাখো’। তারপর তিনি বলেন, আমি বললাম, যখন মানুষেরা পরস্পরের মাঝে থাকে তখন? তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যতদূর সম্ভব কেউ যেন অন্যের গোপনাঙ্গের দিকে না তাকায়’। তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে? তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘লজ্জার ব্যাপারে আল্লাহ মানুষের চেয়ে অধিক হক্বদার’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০১৭; তিরমিযী, হা/২৭৬৯)।

প্রশ্ন (৪) : কোনো রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পুরুষের জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করা কি বৈধ হবে?

উত্তর: রেশমী কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৩৭)। তবে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বৈধ হবে। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের ও আব্দুর রহমান রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরিধান করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৩৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৬)।

প্রশ্ন (৫): মুশরিক পিতামাতার ও মাহরাম আত্মীয়দের সাথে কি পর্দা করতে হবে?

উত্তর: কোনো মহিলার মাহরাম পুরুষরা মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক তাদের সামনে তাকে পর্দা করতে হবে না। বরং সে তাদের সামনে স্বাভাবিক পোশাকে থাকতে পারবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নারীরা, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপনাঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। এখানে পিতা বা অন্যান্য মাহরামকে মুসলিম হতে হবে মর্মে কোনো শর্ত করা হয়নি। তাছাড়া আবূ সুফিয়ান অমুসলিম থাকাবস্থায় তার মেয়ে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর ঘরে প্রবেশ করেন। কিন্তু তার থেকে তিনি পর্দা করেছেন মর্মে কোনো প্রমাণ নেই। তাই মাহরাম পুরুষ মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক, তাদের সামনে মহিলাকে পর্দা করতে হবে না।


প্রশ্ন (৬) : একটি মসজিদের কিবলার ওয়ালের পশ্চিমে কবরস্থান আছে। মসজিদের ক্বিবলার ওয়ালের পরেই কবরস্থানের অংশ এবং ক্বিবলার ওয়ালহইতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ ফিট দূরে বেশ কয়েকটি কবর আছে। কবর ও কিবলার ওয়াল এর মাঝে আলাদা ভাবে কোনো ওয়াল বা চলাচলের রাস্তা নেই, সম্পূর্ণ ফাঁকা আছে। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় শুদ্ধ হবে কি?

উত্তর: উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে না, বরং আগে কবরস্থান ও মসজিদকে পৃথক কোনো দেয়াল দিয়ে আলাদা করতে হবে। কেননা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কবরের দিকে মুখ করে ছালাত আদায় করো না এবং কবরের ওপর বসো না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২)। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কবরের উপর ঘর নির্মাণ করতে কিংবা তার উপর বসতে অথবা তার উপর ছালাত আদায় করতে (মুসনাদে আবী ইয়ালা, হা/১০২০; তাহযীরুস সাজিদ, পৃ. ২৯, সনদ ছহীহ, হায়ছামী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য)। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কবরের দিকে মুখ করে ছালাত আদায় করো না কিংবা কবরের উপর ছালাত আদায় করো না’ (ত্ববারানী, আল মু‘জামুল কাবীর, হা/১২০৫১; তাহযীরুস সাজিদ, পৃ. ২৯)।





Comments