Posts

সমসাময়িক বিষয়ে ইসলামিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-০৩

 প্রশ্ন (১): আমার এলাকায় কিছু মসজিদে ইক্বামত শুরু হয়ে ‘ক্বাদকামাতিছ ছালাহ’বলার সময় সবাইদাঁড়িয়ে কাতার সোজা করে। ইক্বামত শুরুর কোনো পর্যায়েদাঁড়াতে হবে? উত্তর : মুক্তাদী চাইলে ইকামতের শুরুতেও কাতারে দাঁড়াতে পারে, আবার ইকামত চলা অবস্থাতেও দাঁড়াতে পারে। এই বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে। কেননা ইকামতের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে ছালাতে দাঁড়াতে হবে মর্মে কোনো দলীল নেই (মাজমূ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১০/৩৬৭)। তবে ইকামতের সময়ে যদি ইমাম উপস্থিত না থাকে, তাহলে ইমামকে না দেখা পর্যন্ত কাতারে দাঁড়াবে না। কেননা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي ‘ছালাতের ইকামত দেওয়া হলে, আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০৪)। অনেক মসজিদে সকল মুছল্লীর না দাঁড়ানো পর্যন্ত ইকামত শুরুই করা হয় না, যা সুন্নাহসম্মত নয়। আবার ‘ক্বদ ক্ব-মাতিছ ছালাহ’ বলার সময়ই দাঁড়াতে হবে, তার আগে কিংবা পরে দাঁড়ানো যাবে না, এমন নিয়ম করাও বিদআত। প্রশ্ন (২): সুন্নাত বা নফল ছালাত আদায়কারীর পিছনে ফরয ছালাত আদায় করা যাবে কি? উত্তর: নফল ছালাত আদায়কা...

সমসাময়িক বিষয়ে ইসলামিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-০২

 প্রশ্ন (১): চুল কাটার পর গোসল না করে ছালাত আদায় করলে তার ছালাত হবে কি এবং নাভিরনিচের চুল কাটার পর গোসল কি ফরয? উত্তর: স্ত্রী সহবাস বা অন্য কোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে, নারীরা মাসিক কিংবা নিফাস থেকে পবিত্র হলে গোসল ফরয হয়। এছাড়া অন্য কোনো কারণে গোসল ফরয হয় না। তাই চুল কাটলে কিংবা নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করলেও গোসল ফরয হয় না। অনুরূপভাবে চুল কাটা অযূ ভঙ্গেরও কোনো কারণ নয়। তাই অযূ অবস্থাতে চুল কেটে, সেই অযূতেই ছালাত আদায় করতে পারে। উল্লেখ্য, নাভির নিচের লোম চল্লিশ দিনের বেশি ছেড়ে রাখা উচিত নয় (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫)। প্রশ্ন (২): মহিলাদের সাদা স্রাব হলে কি অযূ ভেঙ্গে যায়? উত্তর: হ্যাঁ, কোনো রোগ ছাড়াই যদি কোনো কারণে সাদাস্রাব বের হয়, তাহলে তাতে অযূ ভেঙ্গে যাবে। সাহল ইবনু হুনায়ফ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রচুর মযী নির্গত হতো, তাই বহুবার গোসল করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘এতে তোমার জন্য শুধু অযূ করাই যথেষ্ট’। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তা আমার কাপড়ে লেগে গেলে কী কর...

সমসাময়িক বিষয়ে ইসলামিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-০১

 প্রশ্ন : এমন কোনো বস্তু যেটা পানি দ্বারা ধোয়া যাবে না যেমন- মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ ইত্যাদিতে নাপাকী লেগে গেলে করণীয় কী? উত্তর: নাপাকী পবিত্র করার মাধ্যম দুটি- ১. ধৌত করা ও ২. মুছে নেওয়া। যদি এমন স্থানে নাপাকী লাগে, যা পানি দ্বারা ধৌত করলে সেটির কোনো ক্ষতি হবে না, তাহলে তা সম্ভবপর পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে। আর যদি পানি দিলে সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে কোনো কিছু দিয়ে নাপাকী মুছে ফেললেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর উম্মু ওয়ালাদ দাসী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা-কে বললাম, আমি কাপড়ের আঁচল খুবই ঝুলিয়ে পরি। অনেক সময় ময়লা জায়গা দিয়েও আমার হাঁটতে হয়। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? তিনি বললেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পরবর্তী পবিত্র স্থান তাকে পবিত্র করে দিবে’ (তিরমিযী, হা/১৪৩)। প্রশ্ন: সন্ধ্যার পরে বাহিরে কাপড় থাকলে কোনো ক্ষতি হয় কি? উত্তর: এগুলো প্রচলিত কুসংস্কারমাত্র। এসব বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...